Header Ads

বিয়ের পর কেন ওজন বাড়ে/Why do people gain weight after marriage?

 

বিয়ের পর কেন ওজন বাড়ে/Why do people gain weight after marriage?
বিয়ের কয়েক মাস পর প্রায় সব ছেলে-মেয়েই মোটা হয়ে যায়। তবে কী কারণে বিয়ের পর মোটা হয়ে যায় তার বিস্তারিত কথা বলেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন।

ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, এই ওজন বৃদ্ধি শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে নয়; এর পেছনে রয়েছে জীবনযাপনের ছন্দ বদল, হরমোনের ওঠানোমা, ঘুমের অনিয়ম এবং সামাজিক অভ্যাসের প্রভাব।

বিয়ের আগে অনেকে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা সক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত থাকেন। তবে বিয়ের পর সংসারের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্ব বাড়ায় শারীরিক পরিশ্রম কমে যায়।

একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা স্বাভাবিকভাবেই খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

দম্পতিরা একসঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা রেস্তোরাঁর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। রাত জেগে গল্প করা, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া বা নিয়মের বাইরে স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে।

এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
বিয়ের পরের কয়েক মাসে আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত বা নিজের বাসায় অতিথি আপ্যায়ন নিয়মিত ঘটে। এসব দাওয়াতে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হয়, যা ওজন বাড়ানোর একটি বড় কারণ- মন্তব্য করেন ডা. আফসানা নয়ন।

নতুন জীবনে মানসিক স্থিতি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হলে অনেকে আরামপ্রিয় হয়ে পড়েন। আনন্দ, ভালোবাসা বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে খাবারকে জুড়ে দেওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় ‘কমফোর্ট ইটিং’, যা অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের মাধ্যমে ওজন বাড়ায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর হরমোনের পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময়।

গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া স্বাভাবিক হলেও প্রসবের পর তা কমানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও মানসিক চাপ, কাজের দায়িত্ব ও বয়সজনিত হরমোনের সামান্য পরিবর্তন বিপাকক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।

বিয়ের পর ঘুমের সময়সূচি ও মানে পরিবর্তন আসে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

ডা. নয়ন পরামর্শ দেন, বিয়ের পর ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও সচেতনতা ও ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

রূপালী বাংলাদেশ

No comments