মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছেন? এতে কী হয় জেনে নিন/Are you sleeping with a dim light on? Find out what happens
ঘুম প্রাণীজীবনের অত্যাবশ্যকীয় বিশ্রাম প্রক্রিয়া। বলা যায়, ঘুম ছাড়া জীবন অচল। জীবনের অতিপ্রয়োজনীয় এই ঘুম নিয়ে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু অভ্যাস রয়েছে। কেউ একদম অন্ধকারে ঘুমাতে পছন্দ করেন, কেউ আলো জ্বালিয়েই ঘুমান। আবার কেউ মৃদু আলোতে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
কিন্তু গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস খুবই ক্ষতিকর। মৃদু আলো, বিশেষত কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষণার দাবি, মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমের অভ্যাস আপনার ঘুমের মান নষ্ট করে, বিপাক হার কমিয়ে দেয় এবং ডায়াবিটিসের মতো সমস্যা ডেকে আনে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্ধকারে যখন ঘুমোতে যান, শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোন আপনার মস্তিষ্ককে ঘুমিয়ে পড়ার সংকেত দেয়। কিন্তু যখন আলোর উপস্থিতি থাকে, তখন এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়। তাই যখন ভোর বা সকাল হয়, তার সঙ্গে ঘুম ভাঙে। আবার রাত হলে চোখের পাতায় ঘুম নেমে আসে। এটা শরীরের ‘নাইট মোড’, জৈবিক ঘড়িরই অংশ। সুতরাং, আলো জ্বালিয়ে ঘুমোলে শরীরে ঠিকমতো মেলাটোনিন উৎপন্ন হয় না এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়।
আলো জ্বালিয়ে ঘুমোলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে?
১. ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে
শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আলো জ্বালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেখানেই দেখা গেছে, আলো জ্বালিয়ে ঘুমোলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিশেষত কৃত্রিম আলোর নীচে ঘুমোলে বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। তখন ডায়াবিটিস এবং ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়ে।
২. ঘুমের মান খারাপ হয়
আলো জ্বালিয়ে ঘুমোনো যতই অভ্যাস হোক, এটি ঘুমের সমস্যা বাড়ায়। আলোর জন্য ঘুম গভীর হয় না। মাঝরাতে বার বার ঘুম ভেঙে যায়। শরীরিক মেরামতের জন্য যতটা পরিমাণ এবং গভীর ঘুম দরকার, সেটা হয় না। ফলে ঘুমের অভাব থাকে এবং শরীরজুড়ে ক্লান্তি কাজ করে।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
গবেষকরা বলছেন, মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া শুধু ঘুমের মান নষ্ট করে না, বাড়ায় শারীরিক সমস্যাও। এই হরমোন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে, বিপাক হার বাড়াতে এবং কোষের মেরামতেও সাহায্য করে। যখনই এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হবে, এই কাজগুলোতেও ব্যাঘাত ঘটবে। এর প্রভাবে শরীরে ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি বাড়বে।
ঘুমের সমস্যা এড়াতে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
১. ঘুমোনোর সময়ে টিভি, মোবাইল, ল্যাপটপের মতো ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন।
২. বেডরুমের পরিবেশ আরামদায়ক হওয়া দরকার।
৩. বিকালের পর এড়িয়ে চলুন চা-কফি এবং অ্যালকোহল।
৪. সঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এতে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমের ছন্দপতন ঘটবে না।
সূত্র : এই সময়

Post a Comment