ফিতরা কখন ও কিভাবে আদায় করতে হবে?When and how should Fitra be paid?
ফিতরা কখন ও কিভাবে আদায় করতে হবে?When and how should Fitra be paid?
মাসআলা— হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সদকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে। হজরত কুররা রাহ. বলেন—
جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ : نِصْفُ صَاعٍ عَنْ كُلِّ إنْسَانٍ ، أَوْ قِيمَتُهُ نِصْفُ دِرْهَمٍ.
‘আমাদের কাছে ওমর ইবনে আবদুল আযিয রাহ.-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সদকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৪৭০)
বিশিষ্ট তাবেঈ আবু ইসহাক (রাহ.) যিনি ত্রিশেরও অধিক সাহাবি থেকে সরাসরি হাদিস বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন–
أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ الدّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطّعَامِ.
‘আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেঈগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি।’ (বুখারি ১/১৯৪, উমদাতুল কারী ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৪৭২, কিতাবুল আছল ২/১৮০, ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯, আলমাবসূত সারাখসী ২/১৫৬, বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৫)
মাসআলা— চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৪৭২, কিতাবুল আছল ২/১৮০, আলমাবসূত সারাখসী ৩/১১৪, ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/২৪৭, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৫৫)
মাসআলা— একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয।’ (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬৭)
মাসআলা— বিদেশে অবস্থানরত কারও পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ঐ দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ— সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সদকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে।’ (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৫)
মাসআলা— অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন।’ (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/২৮৯)
মাসআলা— সদকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি ১৫০৯)
অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন— হজরত নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন।’ (আবু দাউদ ১৬০৬)
আর হজরত নাফে‘ (রাহ.) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর কাছে সদকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৩১৬)
সুতরাং সদকাতুল ফিতর রমজানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। (আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৫, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩২, বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৭, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৭)
মাসআলা— সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সদকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল ২/২০৭- ২১১, ফাতহুল কাদীর ২/২৩১, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৫২, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৮)।দৈনিক জনকণ্ঠ
Post a Comment