যে ভিটামিনের অভাবে অতিরিক্ত ঘুম পায়/Vitamin deficiency causes excessive sleepiness
অতিরিক্ত ঘুম বা সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা অনেকের কাছেই সাধারণ সমস্যা বলে মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে শরীরে শক্তি উৎপাদন কমে যায়, ফলে ঘুমঘুম ভাব, অবসাদ ও মনোযোগহীনতা দেখা দেয়।
কোন ভিটামিনের অভাবে বেশি ঘুম পায়?
১. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি১২। এর অভাবে—
সবসময় ঘুম পেতে পারে
দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা দেখা দেয়
মনোযোগ কমে যায়
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) তৈরি হয়, যা ক্লান্তি বাড়ায়।
২. ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, শরীরের শক্তি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে—
অতিরিক্ত ঘুম
শরীর ব্যথা
মানসিক অবসাদ
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি কম থাকলে দিনের বেলায় ঘুমঘুম ভাব বাড়ে।
৩. ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6): এটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হয় এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
কেন এমন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভিটামিন শরীরে এনার্জি মেটাবলিজম বা শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঘাটতি হলে কোষ পর্যায়ে শক্তি কম তৈরি হয়, ফলে শরীর বিশ্রাম চায়—যা অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর তথ্য অনুযায়ী:
ভিটামিন বি১২ ও ডি-এর ঘাটতি বিশ্বব্যাপী খুব সাধারণ
ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ঘুম এই ঘাটতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ
বিশেষ করে যারা রোদে কম যান বা নিরামিষ খাদ্য বেশি খান, তাদের ঝুঁকি বেশি
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি—
প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে
কাজের মাঝেও ঘুম পায়
সঙ্গে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা থাকে
তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।
প্রতিকার কী?
পুষ্টিকর খাবার (ডিম, মাছ, দুধ, মাংস)
পর্যাপ্ত রোদে থাকা (ভিটামিন ডি-এর জন্য)
চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট
সতর্কতা
নিজে নিজে ভিটামিন খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত ভিটামিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই গ্রহণ করা উচিত।
অতিরিক্ত ঘুম সবসময় অলসতার লক্ষণ নয়—এটি শরীরের ভিটামিন ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
news24bd
Post a Comment