ফ্রিজে মাছ কতদিন রাখা নিরাপদ?How long is it safe to keep fish in the fridge?
ব্যস্ত জীবনে রেফ্রিজারেটর আমাদের রান্নাঘরের এক অপরিহার্য সহায়ক। এটি খাবার দীর্ঘ সময় ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং প্রতিদিন বাজার করার ঝামেলা কমায়। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—ফ্রিজে রাখা মাছ কতদিন নিরাপদ থাকে এবং কত সময়ের মধ্যে তা রান্না করা উচিত। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে মাছ দ্রুত নষ্ট হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঠিকভাবে প্যাকিং করা। বাজার থেকে আনার পর মাছ ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে শক্ত করে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে, যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। এতে মাছের মান ভালো থাকে এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে। বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে মাছ তুলনামূলকভাবে বেশি সময় টাটকা থাকে।
তাজা মাছ সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহার করা ভালো। ছোট মাছ বা সামুদ্রিক খাবার যেমন চিংড়ি, স্কুইড বা স্ক্যালপ ফ্রিজে এক থেকে দুই দিন নিরাপদ থাকে। বড় আকারের মাছ যেমন টুনা, স্যামন বা ট্রাউট তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রান্না করা উচিত। তবে তেলযুক্ত মাছ যেমন ম্যাকারেল বা সার্ডিন তিন দিনের বেশি রাখলে মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
যদি দুই দিনের মধ্যে মাছ রান্না করার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে ফ্রিজারের সাহায্য নেওয়াই ভালো। ফ্রিজারে রাখার আগে মাছ ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে ভালোভাবে মুড়ে শক্ত করে সিল করতে হবে। ব্যবহার করার সময় হঠাৎ করে বাইরে না রেখে ধীরে ধীরে গলানো উত্তম, যেমন রান্নার আগের রাতে ফ্রিজের নিচের তাকেই রেখে দেওয়া।
রান্না করা মাছও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা নিরাপদ নয়। সাধারণভাবে রান্না করা মাছ ফ্রিজে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এর বেশি সময় রাখলে স্বাদ ও দৈনিক জনকণ্ঠ পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং খাদ্যজনিত সমস্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সঠিকভাবে হিমায়িত করলে মাছের প্রোটিন, চর্বি এবং ভিটামিন এ ও ডি নষ্ট হয় না, যদিও স্বাদ ও টেক্সচারে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে একবার গলে যাওয়া মাছ আবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং খাবার অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুরুতেই ভালো ও তাজা মাছ কেনা। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল থাকে, গন্ধ স্বাভাবিক হয় এবং মাংস আর্দ্র ও টানটান লাগে। ধূসর রঙের, নিস্তেজ বা শুকনো মাছ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে তাজা ও হিমায়িত উভয় ধরনের মাছই নিরাপদ এবং পুষ্টিকর থাকে।
/ দৈনিক জনকণ্ঠ /

Post a Comment